সংসারের কঠিন সময়ে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে রাখার নামই ভালোবাসা। পর্দার দাপুটে অভিনেতা হয়েও বাস্তব জীবনে এক আদর্শ ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ছিলেন প্রয়াত ইরফান খান। শরীরে ক্যানসার থাবা বসানোর পরও স্ত্রী সুতপার প্রতি কর্তব্যে বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি বাবা ইরফানের জীবনের এক আবেগঘন ও অজানা অধ্যায় সামনে এনেছেন ছেলে বাবিল খান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে বাবিল দেখিয়েছেন, ক্যানসারের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়েও কীভাবে স্ত্রী সুতপার পায়ের যত্ন নিতেন ইরফান। তিনি জানান, বাবার অসুস্থতার দিনগুলোতে মা সুতপা সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ করতেন।
দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ছোটাছুটি ও পরিশ্রমের কারণে মায়ের পায়ে কড়া পড়ে গিয়েছিল। নিজের মরণব্যাধির কষ্টের চেয়েও প্রিয়তমার এই কষ্টটা ইরফানের কাছে ছিল অনেক বেশি।

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাবিল লেখেন, ‘বাবার ক্যানসারের সবচেয়ে কষ্টকর সময়ে মা সারাক্ষণ যত্ন নিতেন। এতে মায়ের পায়ে কড়া পড়ে গিয়েছিল। তখন বাবা নিজের মাথায় মোবাইল ফোন বেঁধে সেই আলোয় মায়ের পায়ের চিকিৎসা করতেন।’
ছবিটির ক্যাপশনে বাবিল আরও জানান, এভাবেই সম্পর্কের জটিল আস্তরণ সরিয়ে ভালোবাসার ছোঁয়ায় একে অপরকে বেঁধে রাখতেন তার বাবা-মা। ছেলের এমন স্মৃতিকাতর পোস্ট দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মা সুতপা সিকদারও। তিনি মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘আমার আদরের বাবিল।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ইরফান খানের শরীরে নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















