মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরাছড়া চা বাগানে গত প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি (তলব) ও রেশন বন্ধ থাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বকেয়া পাওনার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৬ই এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বাগানের প্রধান ফটকের সামনে কর্মবিরতিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েক শতাধিক চা-শ্রমিক। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। বর্তমানে বাগানে যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ৪ দিন ধরে শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন দিচ্ছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে করে কয়েক শতাধিক শ্রমিক পরিবার নিয়ে চরম অর্থসংকটে ও অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে গত ১২ই এপ্রিল শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন জানালেও চার দিনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
দেওরাছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কুর্মী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে আমাদের তলব ও রেশন বন্ধ। শ্রমিকরা অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা বার বার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছেন।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার জানান, কিছুদিন আগে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগান ম্যানেজমেন্ট মজুরি বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস গেটে তালা দিয়েছে।
এ বিষয়ে দেওরাছড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কিছু শ্রমিক আমাকে বাগান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। বাগান পঞ্চায়েতকে জানানো হয়েছে যে, ব্যবস্থাপক বাগানে থাকা সাপেক্ষে মজুরি ও রেশন দেওয়া হবে। কিন্তু তারা আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। বাগানে ম্যানেজার না থাকলে পেমেন্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে আমি যেকোনো সময় বাগানে ফিরে গিয়ে মজুরি ও রেশনের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল দেওরাছড়া চা বাগানে গিয়েছেন। শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন দ্রুত প্রদানের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য; মজুরি ও রেশন বন্ধ থাকায় বাগানের সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















