ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রোববার এক বিবৃতিতে সৌদি আরবে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরাইস এলাকায় জ্বালানি খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান আরামকোর একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, ‘‘উভয় অভিযানই সফলভাবে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তু করা আরামকোর স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।’’

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর দখলে থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি বলেছেন, ‘ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ড উদ্ধার’ এবং সারা দেশে সরকারের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সামরিক অভিযান শুরু করবে সরকার।

অনুমোদিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে সরকারি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ওপর থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ অবসানের আগপর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রতি হুথিদের অগ্রগতির পর ওই ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশটির চারটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়েজ শহরের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সংযোগকারী প্রধান সরবরাহ রুট বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

তায়েজ ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ওই অগ্রগতি অর্জন করে হুথিরা। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর অগ্রগতি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে আরও বাড়তি চাপে ফেলে দিয়েছে।

ইয়েমেন সংঘাতের সামগ্রিক উত্তেজনার মাঝে এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; যেখানে রাজধানী সানাসহ দেশটির বড় অংশই বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এর আগেও সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব। অপরদিকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে হুথিদের সমর্থন জুগিয়ে আসছে ইরান।

দীর্ঘদিনের এ সংঘাত বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের অবস্থান হওয়ায় আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা

সৌদিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা

প্রকাশিত : ১২:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রোববার এক বিবৃতিতে সৌদি আরবে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরাইস এলাকায় জ্বালানি খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান আরামকোর একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, ‘‘উভয় অভিযানই সফলভাবে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তু করা আরামকোর স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।’’

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর দখলে থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকার নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি বলেছেন, ‘ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ড উদ্ধার’ এবং সারা দেশে সরকারের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সামরিক অভিযান শুরু করবে সরকার।

অনুমোদিত সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে সরকারি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ওপর থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ অবসানের আগপর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্প্রতি হুথিদের অগ্রগতির পর ওই ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশটির চারটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়েজ শহরের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সংযোগকারী প্রধান সরবরাহ রুট বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

তায়েজ ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ওই অগ্রগতি অর্জন করে হুথিরা। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর অগ্রগতি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে আরও বাড়তি চাপে ফেলে দিয়েছে।

ইয়েমেন সংঘাতের সামগ্রিক উত্তেজনার মাঝে এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; যেখানে রাজধানী সানাসহ দেশটির বড় অংশই বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এর আগেও সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব। অপরদিকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে হুথিদের সমর্থন জুগিয়ে আসছে ইরান।

দীর্ঘদিনের এ সংঘাত বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের অবস্থান হওয়ায় আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব রয়েছে।