পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে দাফন করা হয়েছে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর নিজস্ব সংবাদদাতা সোহরাব হোসেনকে। বুধবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে তাঁর বড় ভাই মাওলানা ওহাব মোল্লার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজায় সোহরাব হোসেনের দুই ছেলে আতিকুর রহমান ও সুফিয়ান মোল্লা তাঁদের বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। এর আগে দ্য ডেইলি স্টার-এর কনটেন্ট এডিটর মোহাম্মদ আল-আমিন, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোহরাব হোসেন। হাসপাতালের মৃত্যু সনদে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আউলিয়াপুরে নিজের বাড়ি থেকে পটুয়াখালী সদরে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে আটটার দিকে মোল্লাবাড়ি স্ট্যান্ডের কাছে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান সোহরাব। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার-এ যোগ দেন সোহরাব হোসেন। দীর্ঘ ২২ বছরের বেশি সময় ধরে পটুয়াখালী সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর প্রতিবেদনে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের নানা চিত্র উঠে এসেছে।
পটুয়াখালী ইপিজেডের জমি অধিগ্রহণে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট এবং বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা সেতুর বিষয়ে প্রতিবেদন করেছেন তিনি। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ১৪০টি ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা, জেলেদের দুর্দশা ও উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন নিয়েও তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি পায়রা বন্দরে বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না হওয়া নিয়ে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও অবদান রাখেন সোহরাব। সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে দ্য ডেইলি স্টার-এর সেরা জেলা প্রতিবেদকের পুরস্কার পান তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোহরাব হোসেন। তিনি পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সোহরাব হোসেনের মৃত্যুতে দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন সোহরাব হোসেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















