ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

এই শিক্ষাবর্ষ থেকেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন আইন ও নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিনটেকসহ ৯টি যুগোপযোগী বিভাগ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বগুড়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হলেও দীর্ঘদিন এর কার্যক্রম ফাইলবন্দি ছিল। নতুন আইন প্রণয়নের ফলে আগের আইনের সঙ্গে বর্তমান আইনের প্রায় ৯৯ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই নতুন আইনের গেজেট অনুমোদন এবং ১৯ জুলাই তা বাস্তবায়নের পর গত আড়াই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ১১ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

উপাচার্য আরও জানান, চাকরির বাজারের চাহিদা ও সময়োপযোগী শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯টি বিভাগ চালুর প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), রোবোটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিনটেক। ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী মার্চে নির্ধারিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, স্বজনপ্রীতি কিংবা কোনো ধরনের সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারা বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘসূত্রতা এবং এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা নির্ধারিত সময়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, আঞ্চলিক চাহিদার প্রতিফলন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক প্রতিনিধি মেহেরুল সুজন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর দাবি জানান।

জবাবে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাংবাদিকতা বিভাগ অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন ইউজিসির অনুমোদন, বিভাগ চালু এবং ভর্তি কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবীদ্বার বারেরায় হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, শুরু হবে নির্মাণ কাজ – ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা

এই শিক্ষাবর্ষ থেকেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ০৩:০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন আইন ও নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিনটেকসহ ৯টি যুগোপযোগী বিভাগ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বগুড়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হলেও দীর্ঘদিন এর কার্যক্রম ফাইলবন্দি ছিল। নতুন আইন প্রণয়নের ফলে আগের আইনের সঙ্গে বর্তমান আইনের প্রায় ৯৯ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই নতুন আইনের গেজেট অনুমোদন এবং ১৯ জুলাই তা বাস্তবায়নের পর গত আড়াই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ১১ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

উপাচার্য আরও জানান, চাকরির বাজারের চাহিদা ও সময়োপযোগী শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯টি বিভাগ চালুর প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), রোবোটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিনটেক। ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী মার্চে নির্ধারিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, স্বজনপ্রীতি কিংবা কোনো ধরনের সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারা বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘসূত্রতা এবং এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা নির্ধারিত সময়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, আঞ্চলিক চাহিদার প্রতিফলন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক প্রতিনিধি মেহেরুল সুজন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর দাবি জানান।

জবাবে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাংবাদিকতা বিভাগ অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন ইউজিসির অনুমোদন, বিভাগ চালু এবং ভর্তি কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।