ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সম্ভাবনার হাতছানি ও ভুল সংশোধনের চ্যালেঞ্জ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০১:০০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

কোনো নাগরিক সরকারি সুবিধা পাবেন কি-না, কোন এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, কোথায় বন্যার সতর্কতা দিতে হবে কিংবা রোগীর চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ কী হবে—রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঢুকছে। প্রশ্নটি তাই এখন শুধু প্রযুক্তির নয়। সিদ্ধান্ত যখন মডেল নেয়, তখন চূড়ান্ত দায় কার?

রোববার (৪ অক্টো) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘দ্য গ্র্যান্ড কনভারসেশন: মডেল যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কে সিদ্ধান্ত নেয়? রাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক আলোচনায় এ প্রশ্ন সামনে আসে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

আলোচনায় উঠে এসেছে—এআই রাষ্ট্রীয় সেবার দক্ষতা ও পরিধি বাড়াতে পারে। তবে ভুল তথ্য, পক্ষপাতদুষ্ট ডেটা, অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া এবং প্রতিকারের সুযোগ না থাকলে এটি নাগরিকের জন্য নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে তিন অগ্রাধিকার

আলোচনার সূত্র ধরে রাষ্ট্রীয় এআই ব্যবহারে বাংলাদেশের সামনে অন্তত তিনটি অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়।

প্রথমত, নীতি ও আইনি কাঠামো। সুসান ভাইজ জানান, ডেটা সুরক্ষা, ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার এগোচ্ছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ একটি অভিন্ন নীতির আওতায় আনতে এআই নীতির সমন্বিত কাঠামো জরুরি।

দ্বিতীয়ত, প্রতিকার ও জবাবদিহি। এআইয়ের কারণে কেউ সুবিধা হারালে, ভুলভাবে শনাক্ত হলে বা সেবা থেকে বাদ পড়লে তাকে জানাতে হবে যে এআই ব্যবহৃত হয়েছে। সিদ্ধান্তের কারণ জানা এবং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে পুনর্বিবেচনা চাওয়ার সুযোগও থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, অন্তর্ভুক্তি। এআইয়ের নকশায় শুধু প্রযুক্তিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা নন, নারী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বয়স্ক মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ডিজিটালভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের মতামতও যুক্ত করতে হবে। আলোচনায় এই বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।

কম সময়ে বেশি মানুষকে ভালো সেবা দেওয়া, দুর্নীতি ও অপচয় কমানো, দুর্যোগ আগে শনাক্ত করা এবং সীমিত সম্পদ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা, এগুলো রাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের বড় সম্ভাবনা। আবার একটি ভুল সিদ্ধান্ত হাজার বা লাখ মানুষের ওপর একসঙ্গে প্রয়োগ হলে প্রযুক্তি ভুলকে শুধু দ্রুত নয়, ব্যাপকও করে তুলতে পারে।

তাই কতগুলো কাজ স্বয়ংক্রিয় হলো বা কত সময় ও অর্থ সাশ্রয় হলো, কেবল তা দিয়ে রাষ্ট্রীয় এআই ব্যবস্থার সাফল্য মাপা যাবে না। দেখতে হবে, ভুল হলে নাগরিক কীভাবে জানতে পারেন, কীভাবে আপিল করতে পারেন এবং কে ব্যাখ্যা দেবেন ও দায় নেবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনাইটেডে খেলা চাপের হলেও উপভোগ করছেন লামেন্স

রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সম্ভাবনার হাতছানি ও ভুল সংশোধনের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত : ০১:০০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কোনো নাগরিক সরকারি সুবিধা পাবেন কি-না, কোন এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, কোথায় বন্যার সতর্কতা দিতে হবে কিংবা রোগীর চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ কী হবে—রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঢুকছে। প্রশ্নটি তাই এখন শুধু প্রযুক্তির নয়। সিদ্ধান্ত যখন মডেল নেয়, তখন চূড়ান্ত দায় কার?

রোববার (৪ অক্টো) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘দ্য গ্র্যান্ড কনভারসেশন: মডেল যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কে সিদ্ধান্ত নেয়? রাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক আলোচনায় এ প্রশ্ন সামনে আসে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

আলোচনায় উঠে এসেছে—এআই রাষ্ট্রীয় সেবার দক্ষতা ও পরিধি বাড়াতে পারে। তবে ভুল তথ্য, পক্ষপাতদুষ্ট ডেটা, অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া এবং প্রতিকারের সুযোগ না থাকলে এটি নাগরিকের জন্য নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে তিন অগ্রাধিকার

আলোচনার সূত্র ধরে রাষ্ট্রীয় এআই ব্যবহারে বাংলাদেশের সামনে অন্তত তিনটি অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়।

প্রথমত, নীতি ও আইনি কাঠামো। সুসান ভাইজ জানান, ডেটা সুরক্ষা, ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার এগোচ্ছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ একটি অভিন্ন নীতির আওতায় আনতে এআই নীতির সমন্বিত কাঠামো জরুরি।

দ্বিতীয়ত, প্রতিকার ও জবাবদিহি। এআইয়ের কারণে কেউ সুবিধা হারালে, ভুলভাবে শনাক্ত হলে বা সেবা থেকে বাদ পড়লে তাকে জানাতে হবে যে এআই ব্যবহৃত হয়েছে। সিদ্ধান্তের কারণ জানা এবং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে পুনর্বিবেচনা চাওয়ার সুযোগও থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, অন্তর্ভুক্তি। এআইয়ের নকশায় শুধু প্রযুক্তিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা নন, নারী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বয়স্ক মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ডিজিটালভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের মতামতও যুক্ত করতে হবে। আলোচনায় এই বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।

কম সময়ে বেশি মানুষকে ভালো সেবা দেওয়া, দুর্নীতি ও অপচয় কমানো, দুর্যোগ আগে শনাক্ত করা এবং সীমিত সম্পদ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা, এগুলো রাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের বড় সম্ভাবনা। আবার একটি ভুল সিদ্ধান্ত হাজার বা লাখ মানুষের ওপর একসঙ্গে প্রয়োগ হলে প্রযুক্তি ভুলকে শুধু দ্রুত নয়, ব্যাপকও করে তুলতে পারে।

তাই কতগুলো কাজ স্বয়ংক্রিয় হলো বা কত সময় ও অর্থ সাশ্রয় হলো, কেবল তা দিয়ে রাষ্ট্রীয় এআই ব্যবস্থার সাফল্য মাপা যাবে না। দেখতে হবে, ভুল হলে নাগরিক কীভাবে জানতে পারেন, কীভাবে আপিল করতে পারেন এবং কে ব্যাখ্যা দেবেন ও দায় নেবেন।