ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢেউয়ের টানে পর্যটকের অপেক্ষায় কুয়াকাটা, প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে জমজমাট হওয়ার প্রত্যাশা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৫:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সমুদ্রের ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর দিগন্তজোড়া জলরাশির হাতছানি। একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল অভিজ্ঞতা নিতে আবারও পর্যটকদের অপেক্ষায় কুয়াকাটা। শারদীয় দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ছে উৎসবের প্রস্তুতি। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসক শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকেছুটি শুরু হচ্ছে এছাড়াও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর থাকছে সাপ্তাহিত ছুটি । এই পাঁচ দিনের ছুটিতে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের পর্যটন কার্নিভাল কুয়াকাটার সৈকতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করবে। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন, খাবারের মান, নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কুয়াকাটায় রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসতে পারেন। তাঁদের থাকার জন্য এখানে তিন শতাধিক হোটেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দীর্ঘ ছুটি ও কার্নিভালকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলগুলোতেও আগাম বুকিংয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, এবার পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের প্রত্যাশা রয়েছে। সে অনুযায়ী আবাসন প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। অতিথিরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কুয়াকাটার আকর্ষণ শুধু সমুদ্রসৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
রাখাইন পল্লি, মিশ্রিপাড়া, গঙ্গামতি ও লেম্বুর বনের মতো দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আগমন ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাখাইন মার্কেট, শুঁটকি বাজার, ঝিনুক ও আচার বিক্রেতা এবং স্থানীয় খাবারের দোকানিরা।
পর্যটকেরা বেড়াতে এলে শুধু হোটেল বা রিসোর্টের ব্যবসা বাড়ে না, জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হয় ছোট দোকানি, পরিবহনশ্রমিক, খাবার বিক্রেতা ও স্থানীয় গাইডদেরও। তাই এই আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমীর বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের পর্যটন কার্নিভাল যুক্ত হওয়ায় এবার পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ নয় বছর পর এ ধরনের আয়োজন পর্যটনকেন্দ্রটির জন্য আনন্দের বিষয়।
তবে তাঁর মতে, পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আয়োজনের পাশাপাশি তাঁদের ভালো অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য ব্যবসায়ীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পর্যটকের বাড়তি চাপ সামলাতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, সৈকতসহ পর্যটকদের সমাগমস্থলগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। কোনো পর্যটক যাতে হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক থাকবে। যেকোনো সমস্যায় পর্যটকদের ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটায় তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ। এখন অপেক্ষা পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠার। তবে এই আয়োজনের সাফল্য শুধু কত মানুষ সৈকতে এলেন, তা দিয়ে মাপা যাবে না; পর্যটকেরা কতটা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও হয়রানিমুক্ত ভ্রমণ করতে পারলেন, সেটিও হবে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলাপাড়ায় ১ হাজার মিটার জালসহ দুই জেলে আটক পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ঢেউয়ের টানে পর্যটকের অপেক্ষায় কুয়াকাটা, প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে জমজমাট হওয়ার প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ০৫:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সমুদ্রের ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর দিগন্তজোড়া জলরাশির হাতছানি। একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল অভিজ্ঞতা নিতে আবারও পর্যটকদের অপেক্ষায় কুয়াকাটা। শারদীয় দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে বাড়ছে উৎসবের প্রস্তুতি। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসক শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকেছুটি শুরু হচ্ছে এছাড়াও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর থাকছে সাপ্তাহিত ছুটি । এই পাঁচ দিনের ছুটিতে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের পর্যটন কার্নিভাল কুয়াকাটার সৈকতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করবে। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন, খাবারের মান, নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কুয়াকাটায় রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসতে পারেন। তাঁদের থাকার জন্য এখানে তিন শতাধিক হোটেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দীর্ঘ ছুটি ও কার্নিভালকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলগুলোতেও আগাম বুকিংয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, এবার পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের প্রত্যাশা রয়েছে। সে অনুযায়ী আবাসন প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। অতিথিরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কুয়াকাটার আকর্ষণ শুধু সমুদ্রসৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
রাখাইন পল্লি, মিশ্রিপাড়া, গঙ্গামতি ও লেম্বুর বনের মতো দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আগমন ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাখাইন মার্কেট, শুঁটকি বাজার, ঝিনুক ও আচার বিক্রেতা এবং স্থানীয় খাবারের দোকানিরা।
পর্যটকেরা বেড়াতে এলে শুধু হোটেল বা রিসোর্টের ব্যবসা বাড়ে না, জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হয় ছোট দোকানি, পরিবহনশ্রমিক, খাবার বিক্রেতা ও স্থানীয় গাইডদেরও। তাই এই আয়োজন ঘিরে প্রত্যাশা বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমীর বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের পর্যটন কার্নিভাল যুক্ত হওয়ায় এবার পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ নয় বছর পর এ ধরনের আয়োজন পর্যটনকেন্দ্রটির জন্য আনন্দের বিষয়।
তবে তাঁর মতে, পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আয়োজনের পাশাপাশি তাঁদের ভালো অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য ব্যবসায়ীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পর্যটকের বাড়তি চাপ সামলাতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, সৈকতসহ পর্যটকদের সমাগমস্থলগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। কোনো পর্যটক যাতে হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক থাকবে। যেকোনো সমস্যায় পর্যটকদের ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটায় তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ। এখন অপেক্ষা পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠার। তবে এই আয়োজনের সাফল্য শুধু কত মানুষ সৈকতে এলেন, তা দিয়ে মাপা যাবে না; পর্যটকেরা কতটা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও হয়রানিমুক্ত ভ্রমণ করতে পারলেন, সেটিও হবে গুরুত্বপূর্ণ।